বাংলা ছবির বাজারে কম বাজেটে ভালো ছবি করাই আমার চ্যালেঞ্জ: অরিন্দম শীল

নতুন শবর নিয়ে প্রস্তুত পরিচালক অরিন্দম শীল। তারই সঙ্গে নতুন রহস্য উন্মোচনের জন্য নিজেকেও প্রস্তুত করে ফেলেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় অর্থাৎ শবর দাশগুপ্ত। ১২ই আগষ্ট মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি। নাম ‘ঈগলের চোখ’। মুক্তির আগে www.plusbangla.com –এর সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় সেলুলয়েডের পর্দায় শবরের  স্রষ্টা এবং শবর।

0
1022

প্লাস বাংলাঃ কেমন আছেন?

শাশ্বতঃ  যেমন থাকা যায়, এরকম বাজারে। চারদিকে যা চলছে তাতে খুব একটা ভালো থাকার কথা নয়। তবে ভালো আছি।

প্লাস বাংলাঃ এবারের শবর কি চাইছে?

Saswataশাশ্বতঃ সত্য অনুসন্ধান করা। তবে শবর কি চাইছে জানি না, শাশ্বত চ্যাটার্জী কি চাইছে সেটা বলতে পারি। (হাসি) শবরের জীবনে একটা নারী আসুক, চাইছেন কি?(বলেই হাসি)

প্লাস বাংলাঃ শবরের জীবনে নারী আনার কথাটা পরিচালক অরিন্দম দা বলতে পারবেন ভালো। তবে যা যা রেখেছেন তাতে শবর কিন্তু কাঁপিয়ে দিচ্ছে।

শাশ্বতঃ হ্যাঁ, তার জন্য শবর মাঝে মাঝে নিজেও কেঁপে যাচ্ছে। (বলেই দুজনেই হাসি)

অরিন্দম: সত্যি কথা বলতে আগের থেকে এই শবর আরও বেশি অপরাধ কেন্দ্রীক। যে অপরাধগুলো ঘটেছে সেটার মধ্যেই ঘোরা ফেরা করছে  এবং অপরাধী কে সেটা নিয়েই গোটা গল্প। আগেরটায় যেমন পাশে একটা প্রেমের গল্প ছিল, এটা একেবারে মেদহীন একটা গল্প।

ছবিতে একটা ডার্ক সাইটও আছে। গল্পের যে protagonist তার একটা past আছে। সেই past খুব একটা সুখকর নয়। যে past-টা আমাদের বাঙালী সমাজে খুবই পাওয়া যায়। সেখানকার সেই জায়গাটা explore করেছি-সেটা হল child sexual abuse. যেটার দিকে আমরা তাকাতে ভয় পাই। যেই বিষয়টাকে আমরা address করি না। এটাকে এই ছবিতে address করা হয়েছে।

প্লাস বাংলাঃ অরিন্দম দা আরও একটা বিষয় জানতে চাইব। এখন detective এবং thriller ছবির জোয়ার বলা যেতে পারে। সেই তালিকায় আপনি আপনার ছবিকে কোন জায়গায় রাখবেন?

Arindam Silঅরিন্দমঃ ‘এবার শবর’ এবং ‘হরহর ব্যোমকেশ’ ছাড়া আর একটা thriller ছবির নাম করুন, যেটা super success হয়েছে! আমরা যে কাজটা করছি সেটা আমরা সম্পূর্ণ দিয়ে করার চেষ্টা করছি এবং সততার সঙ্গে করি। জোয়ার কোথায় কী জানি না। শবর আর ব্যোমকেশ অর্থাৎ আমার ব্যোমকেশ তাদের জায়গায় অনেক বেশী স্বকীয়। আমার মনে হয় না তার ধারে কাছে compare করার মতো কেউ আছে বলে।

প্লাস বাংলাঃ অরিন্দম দা আপনি এক দিকে শবর তৈরি করছেন আর অন্যদিকে আবার ব্যোমকেশের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তার জন্য আলাদা pressure feel  করেন?

অরিন্দমঃ এক সঙ্গে চারটে detective-ও একভাবে চালাতে পারি। কারণ আমি যখন যে কাজটা করি সেটা যদি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে করি তাহলেই সেটা সম্ভব। যেটাই করবো সেটাতেই আমার ১০০% দিয়ে করবো।

প্লাস বাংলাঃ এই ছবিটা খুব কম সময় শেষ হয়েছে। এতো কাস্টিং, এতো তাড়াতাড়ি শুটিং শেষ করার বাড়তি কি অনেক চাপ অনুভব করেছেন শাশ্বত দা?

শাশ্বতঃ  সেটা তো total unit-এর ওপরেই pressure পড়ে। কিন্তু আমাদের কাজের বাজেটের কথা ভেবে সেটা করতে হয়। কারণ আর যাই হোক বাংলা ছবি বাজারে যতই হিট করুক বাংলা ছবির মার্কেট কিন্তু সেভাবে বাড়ছে না। আমরা এখন অনেক বড় করে ভাবছি বাংলা ছবি নিয়ে। national এবং international ছবির ব্যাপ্তীর কথা। কিন্তু দুঃখের কথা বাংলা ছবি এখনও regionally আটকে আছে। তো স্বাদ অনেক, স্বাধ্য কম তাই এই দুটোকে তো balance রাখতেই হয়।

অরিন্দমঃ প্রডিউসার মাথায় বন্দুক দিয়ে কখন‌ই বলেন নি যে ২৪ দিনে কাজ শেষ করতে হবে। আমার মনে হয় যে এতে আমাদের সকলের একটা দায়িত্ব বেড়ে গেছে। বাংলা ছবির বাজারে কম বাজেটে ভালো ছবি করাই আমার চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে যেমন আমার কোনও অধিকার নেই যে একটা প্রোডিউসারের টাকা নিয়ে তাতে নয় ছয় করে একটা খারাপ ছবি বানাবো।

প্লাস বাংলাঃ  ছবির সব থেকে ভালো অভিজ্ঞতা এবং সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা কোনটা?

অরিন্দমঃ সবটাই ভালো অভিজ্ঞতা খারাপ অভিজ্ঞতা বলে কিছুই নেই। হ্যাঁ, খারাপ অভিজ্ঞতা অপুর থাকতে পারে। কারণ ওকে যেভাবে দৌড়তে হয়েছে! (বলার পরই দুজনের হাসি)

শাশ্বতঃ ওটা তো part of the job. আসলে কাজটা যখন ভালো হয় তখন পুরো অভিজ্ঞতাটাই ভালো হয়। ওই কথায় বলে না যে, যার সব ভালো তার শেষ ভালো। তাই কাজেই তখন খারাপ লাগার কোনও মুহূর্ত এখন আর খারাপ লাগে না। সব থেকে ভালো অভিজ্ঞতার দিকে বরঞ্চ তাকিয়ে আছি, মানে ১২ তারিখে ছবিটা রিলিজ করছে।

প্লাস বাংলাঃ আচ্ছা এবার অরিন্দম দা বলুন শবর হিসেবে শাশ্বত চট্ট্যোপাধ্যায়কে কত  marks দেবেন?

Togetherঅরিন্দমঃ আরে full marks. অপুর একটা বিশাল গুণ আছে যে ওর অভিনয়ের জায়গাটা ও বুদ্ধি দিয়ে করে। শবরকে যদি ও এভাবে না করতো তাহলে হয়তো শবর এতটা popular হতোই না।

শাশ্বতঃ খুবই ভয়ে ছিলাম জানেন তো। কারণ শবরের চেহারাটা যেমনটা শীর্ষেন্দু বাবু চেয়েছিলেন, সেটা আমার নয়। কাজেই সেটাকে করতে গিয়ে আমি ভয়ে ভয়ে ছিলাম। এরপর শীর্ষেন্দুবাবুর সেটা ভালো লেগেছে, আমি তাতেই খুশি। আমি তো শুনেছি যে শীর্ষেন্দুবাবু আবার শবর লিখছেন।

অরিন্দমঃ হ্যাঁ, এটা একটা বড় ব্যাপার।

প্লাস বাংলাঃ শবরের বাকি যে সিরিজগুলো আসছে সেটা নিয়ে কি ছবি বানানোর কথা ভাবছেন?

অরিন্দমঃ হ্যাঁ, আমাদের কাছে, শবরের আরও একটা গল্পের rights-ও নেওয়া আছে। তবে আমি তাকিয়ে আছি শীর্ষেন্দুবাবু শবর নিয়ে আগামী যে উপন্যাসটা লিখছেন তার ওপর। কারণ ছবি হওয়ার পর তিনি সেটা লিখছেন, তাই ছবির বিষয়টা ওনার মাথায় থাকবে। তবে শবর নিয়ে ছবিতো আবার হবে, যদি এই ‘ঈগলের চোখ’ সফল হয়। তাই আগে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই, তারপর পরের গুলো।

প্লাস বাংলাঃ শাশ্বত দা আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন, আপনি নিজে শবর হিসেবে নিজেকে কতটা marks দেবেন?

শাশ্বতঃ একটু ভেবে….. সাত!

প্লাস বাংলাঃ  কেন? ব্যাক্ষা করবেন!

শাশ্বতঃ (হাসতে হাসতে)  improve করার জন্য আরও তিন বাকি রেখে দিলাম। (বলার পরই পরিচালক ও অভিনেতার জোরে হাসি)

‘ঈগলের চোখে’র জন্য  অনেক শুভেচ্ছা প্লাস বাংলার পক্ষ থেকে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY