বাংলা ভাষা এতো মিষ্টি যে বাংলা মিউজিক এমনিই সুন্দর তৈরি হয়ে যায় : রাঘব সাচার

মুক্তির আগেই ‘রুস্তম’ ছবি নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শক মহলে আলোড়ন শুরু হয়েছে। এই ছবির টাইটেল ট্র্যাকও তাঁর করা। তিনি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির এক জন খ্যাতনামা মাল্টি ইন্সট্রুমেন্টালিস্ট। মিউজিক তাঁর রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তিনি- রাঘব সাচার। এই সব কিছু নিয়েই www.plusbangla.com –র সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন তিনি।

0
583

প্লাস বাংলা: গোটা বিশ্ব জুড়ে শো করেণ, কিন্তু বাংলা সঙ্গীত আপনার কাছে কিরকম?

রাঘব সাচার: কলকাতার প্রত্যেক অলিতে-গলিতে সঙ্গীত রয়েছে। বাংলা ভাষা এতো মিষ্টি যে বাংলা মিউজিক এমনিই সুন্দর তৈরি হয়ে যায়।(হাসতে হাসতে)

Raghav Sachar_3প্লাস বাংলা: রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনেন?

রাঘব সাচার: রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনছি ছোটবেলা থেকেই। বলিউডের প্রচুর গান রয়েছে যেগুলি রবীন্দ্রসঙ্গীত দ্বারা অনুপ্রাণিত। আরডি বর্মণের অনেক গান রবীন্দ্রসঙ্গীত দ্বারা অনুপ্রাণিত। আমি একজন পাঞ্জাবি আমাদের পাঞ্জাবি ফোক যেমন জনপ্রিয় আমাদের কাছে তেমনি আপনাদের কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত। আমি চাই আমার পরবর্তী যে কোনও ছবির কোনও গানে আমি যেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ওপর কাজ করতে পারি।

প্লাস বাংলা: আপনি তো ৩৩ রকমের ইন্সট্রুমেন্ট বাজাতে পারেন। শুরুটা কি হঠাৎ হয়েছিল?

রাঘব সাচার: প্রথম ছিল হারমণিকা। বাবা আর্মি অফিসার ছিলেন, আর সঙ্গে করে হারমণিকা রাখতেন যে সুযোগ পেলে বাজাবেন। আমি তখন জানতাম না হারমণিকা কিভাবে বাজায়। বাবা তখন হাতে দিয়ে হারমণিকা বাজানোর চেষ্টা করতে বলেন। আসলে হারমণিকা এমন একটা যন্ত্র যেটা নিজেকেই অনুভব করে বাজাতে হয়। ব্যাস তখন থেকে শুরু। প্রত্যেক জন্মদিনেই বাবার থেকে একটা করে ইন্সট্রুমেন্ট নিতাম ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। (বলেই হাসি)

প্লাস বাংলা: আপনার সবচেয়ে পছন্দের ইন্সট্রুমেন্ট কোনটা?

রাঘব সাচার: সবার প্রথম স্যাক্সোফোন। সাত বছর বয়স থেকে স্যাক্সাফোন লুকটা দেখেই ভীষণ ভালো লাগত। তার পরের পছন্দ ফ্লুট এবং হারমণিকা।

প্লাস বাংলা: যখন পারফর্ম করেন তখন অনেক যন্ত্রই আপনার সঙ্গে থাকে। কি করে বোঝেন যে ঠিক কোন সময় কোন যন্ত্র বাজালে শ্রোতারা পছন্দ করবেন‌?

Raghav Sachar_4রাঘব সাচার: (হাসি) আসলে এটা একটা মাইন্ড গেম। শো চলাকালীন ভীষণ ভাবেই শ্রোতাদের সঙ্গে ইন্টারাক্ট করতে হয়, তখন আমি অনুভব করেনি যে কোন মিউজিক প্রয়োজন।

প্লাস বাংলা: অক্ষয় কুমারের আপকামিং ছবি ‘রুস্তম’ নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ শোরগোল পড়েছে দর্শক মহলে। এই ছবির টাইটেল ট্র্যাক আপনার করা। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা?

রাঘব সাচার: খুব ভালো। অক্ষয় কুমারে সঙ্গে এক ‌লম্বা মিটিং হয়েছিল। সেই মিটিংয়ে এই ছবির গোটা জিস্টটা আমি জানতে পেরেছিলাম। ঠিক কি রকম ক্যারেক্টারিস্টিক, ঠিক কি রকম এনার্জি ও পাওয়ার দিয়ে এই টাইটেল ট্র্যাকটি বানাতে চাইছেন তারা আমাকে জানিয়েছিলেন। খুব ইন্টারেস্টিং জার্নি ছিল এটা। গানটাও বেশ পাওয়ারফুল। গানের নাম ‘রুস্তম ওহি’। কিভাবে রুস্তম ভাবে, কিভাবে রুস্তম এগিয়ে চলে, কি ষড়যন্ত্র রয়েছে সেই সব মূহুর্তের কো‌লাজ রয়েছে এই গানের ভিডিওতে।

প্লাস বাংলা: ভবিষ্যতে কোনও মিউজিক ইন্সটিটিউট খোলার ইচ্ছে আছে?

রাঘব সাচার: হ্যাঁ, অনেকককক দিনের ইচ্ছে। এ.আর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছি, শো করেছি, তাঁকে দেখে আমি আপ্লুত। স্কুল খোলার ব্যাপারে রহমান স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। একটু সময় লাগবে। তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই মিউজিক স্কুল বানাবো। যার নাম রাখব- ‘রাঘব সাচার মিউজিক।’

প্লাস বাংলা: মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রিতে বেশ কয়েক বছর হল। আগামী দিন কিভাবে দেখছেন নিজের কেরিয়ারকে?

রাঘব সাচার: হ্যাঁ, ২০০৩ সালে আমি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি জয়েন করেছিলাম তখনও এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম।(একটু ভেবে) ওয়েল.. আশা তো অনেক কিছুই করি। যেভাবে চাইছি সেভাবেই এগোচ্ছি। কিন্তু আমি মনে করি সব কিছুর জন্য লাক একটা বড় ফ্যাক্টর। যেটা ভাগ্যে থাকে না সেটা হয় না। সঠিক সময় বলে দেবে আমার সঙ্গে কি হবে। একটা কথা বলতে পারি আমি একজন হার্ডওয়ার্কিং সঙ্গীত শিল্পী আরও অনেক ছবিতে কাজ করতে চাই। অনেক ছবির কাজও নিয়ে নিয়েছি.. (বলতে বলতেই নিজের গাড়ির দিকে হাঁটা শুরু)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY