আমার কম্পিটিশন আমার সঙ্গে: মুমতাজ

ছেলেবেলার নানান কথা, নিজের অভিনয় জীবন আর বলিউডে এন্ট্রি নিয়ে অকপট মুমতাজ সরকার। www.plusbangla.com -এর প্রতিনিধি পারমিতার সঙ্গে শেয়ার করলেন সেই সব কথা।

0
597

প্লাস বাংলাঃ মুমতাজ নামের সঙ্গে তো ইতিহাস জড়িয়ে আছে..নামের মানে জানো?

মুমতাজ: মুমতাজ নামের মানে এলিগেট বা ঐ ধরণের। (বলেই হাসি)

প্লাস বাংলাঃ গুগল মুমতাজের মানে বলে শান্ত, সিস্টেমেটিক ওয়েতে কাজ করা এবং সেটা এনজয় করা..

মুমতাজ: কাজটা আমি এনজয় করি(হেসে)। শান্ত আমি একেবারে নই। আমি ছোটবেলা থেকেই ভীষণ দূরন্ত টাইপের ছিলাম। আমি এক জায়গায় একদম বসে থাকতে পারিনা। একটা লম্ফঝম্ফ ব্যাপার সবসময় থাকে। ইভেন আমি কাজও খুব স্পিডে করি।

প্লাস বাংলাঃ বাড়ির ছোট মেয়ে। খুব আদুরে ছিলে?

মুমতাজ: বীভৎস। শুধু ছোটবেলায় নয়, এখনও। That is something, I think born with the privileged(হেসে)।

প্লাস বাংলাঃ কেমন ছিল ছোটবেলা, ম্যাজিক দাদুর গল্প জানো?

মুমতাজ: দাদুকে আমরা কখনও দেখিনি। ইনফ্যাক্ট দাদু মারা গেছেন বাবার বিয়ের আগে। ম্যাজিক দাদুকে আমরা কখনও চোখে দেখিনি। তবে তাঁকে আমরা ভীষণভাবে ফিল করি। অদ্ভুদ রকমের প্রেজেন্স অনুভব করতে পারি এবং এটা পেটেন্ট থিং, আমরা কোনও কাজ করার আগে আমরা দাদুকে প্রণাম করে কাজ শুরু করি। তিনি আমাদের কাছে ভগবান। এইরকম একটা মানুষের নাতনি হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আর বাবা আমাদের বেস্ট ফ্রেন্ড, বিগেস্ট গুরু সবকিছু। ছোটবেলাতে অনেকে ‘ফেয়ারি টেল’ পড়ে, রুপকথার সেই গল্প শুনে অনেকে wish  করে তাদের জীবন যেন সেরকম হয়। কিন্তু আমার কাছে আমার life ফেয়ারি টেলের মতো। আমি খুব লাকি এই ধরনের life  পেয়েছি বলে।

প্লাস বাংলাঃ ম্যাজিক পরিবারের মেয়ে কাউকে ম্যাজিক দেখাতে ভালোবাসে?

মুমতাজ: (হেসে), সেটা তো সবসময়। সরকার বাড়িতে ম্যাজিক হচ্ছে মেইন আউট লাইন। বিভিন্ন রকমভাবে প্র্যাকটিস করে এসেছি। শিখে এসেছি। সেটা তো ছিলই।

প্লাস বাংলাঃ দুষ্টুমি করতে ম্যাজিকের মাধ্যমে…

মুমতাজ: না না, ম্যাজিককে কখনও দুষ্টুমি করার জন্য ব্যবহার করিনি। ম্যাজিক একটা বিনোদনের জায়গা। আমাদের প্রফেশন। লাইফ লাইন। এই আর্ট ফর্মকে আমরা অন্য চোখে দেখি। এটাকে খারাপভাবে নিতেই পারব না। যার জন্য আমরা তাস নিয়ে খেলি না। কারণ তাস দিয়ে জাদু দেখাই। ওটা শিল্প আমাদের কাছে।

প্লাস বাংলাঃ যার রক্তে ম্যাজিক, সে কিভাবে acting এ এলে?

মুমতাজ: দেখ স্টেজে যে ম্যাজিক দেখানো হয়, সেখানে জাদুকর কিন্তু অভিনয় করছে। একটা জিনিস যখন ultimate পর্যায় পৌঁছে যায়, তখনই সেটা ম্যাজিক মনে হয়। ম্যাজিক মানে অপর জনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা। আমি অভিনয় করছি বিভিন্ন চরিত্রে এবং ম্যাজিকটা হয় সেখানে যখন দর্শক পর্দার ওপারের চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারছেন।

প্লাস বাংলাঃ বিরসা দাশগুপ্তর সঙ্গে প্রথম ছবি। তারপর তো আর ফিরে তাকাওনি..

মুমতাজ: হুম, আসলে আমি যে অভিনয় করব ভাবিনি। ভেবেছিলাম কোন না কোনও আর্ট শিল্পে থাকব। বক্সিং করতাম আমি। সেই সময় একটি গানের ভিডিও শ্যুটের জন্য আমাকে বাছা হয়। কলেজে পড়াকালীন পকেটমানির জন্য এটা করেছিলাম। সেটাই বিরসা দা দেখেছিল এবং আমাকে ‘003’ ছবির জন্য পছন্দ করেছিল, রিয়ার চরিত্রে। সেখান থেকেই আমি বুঝলাম নিজেকে। Discover করলাম আর বুঝলাম আমার মনের কথা।

1প্লাস বাংলাঃ মুমতাজ কে দর্শক চিনল কবে?

মুমতাজ: অবশ্যই বলতে হয় ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’- এর কথা। ওটা জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট। তার মাঝে অনেকগুলো ছবি করেছিলাম সেগুলো সফল হয়নি বা লোক ফেভার করেনি। তবে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ আমার মতো অনেকের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করেছে। লোকের কাছে আমি পৌঁছে গেলাম।

প্লাস বাংলাঃ আইডল কেউ আছেন?

মুমতাজ: না, আমি আমার মত। আমার জীবনটা আমার মত। আমার একটাই স্বপ্ন, আমি অন্য কোনও অভিনেতা, অভিনেত্রীর মত হতে চাই না। এককথায় আমি আমার বাপ কি বেটি হতে চাই। আমার কম্পিটিশন আমার সঙ্গে।

প্লাস বাংলাঃ তাহলে বলছ এখনকার কর্মাশিয়াল ছবিতে যারা প্রথম সারির অভিনেত্রী তাদের সঙ্গে টিকে থাকার দৌড়ে প্রতিযোগীতা নেই?

মুমতাজ: আসলে আমি নিজেকে দেখি লম্বে রেস কি ঘোড়ি। I Don’t believe in 30 sec fame.  আমার সেই খিদে নেই। আমি এই ইমিডিয়েটটা ভাবি না। লং ফিউচারের কথা ভাবি। আমি কোনও ডল ফেস হতে চাই না। যত তাড়াতাড়ি ওঠা যায়, তত তাড়াতাড়ি মানুষ পড়ে। আমি কাউকে পয়েন্ট আউট করে বলছি না। আমি চাই, কর্মাশিয়াল ছবি করব, তবে সেখানে যেন একজন অভিনেতার মত সম্মান দেওয়া হয়। ওই বার্বি ডলের মতো গেলাম, সেটে actor এর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম সেটা আমি চাইনা। I want to be hero in the film, আমি দর্শকের darling হতে চাই। যাতে চাইলেও কেউ ভুলতে না পারে।

প্লাস বাংলাঃ বলিউডের ছবি ‘শালা খারুশ’-এ তো প্রশংসা পেয়েছো দর্শকদের..

3মুমতাজ: এটাও যেন ঠিক ম্যাজিকের মতো। কোনও অডিশন নয়, কোনও এজেন্ট না, কোনও রেফারেন্স নয়। আমার ঝুলিতে টপ করে এসে পড়ল। আমি তো প্রথমে ফ্রড কেস ভেবেছিলাম। এই রকম ভুলভাল ফোন তো অনেক আসে। আমি, just পাত্তা দিচ্ছিলাম না। যখন আমি মুম্বই গেলাম, পরিচালক কাস্টদের সঙ্গে কথা বললাম তখন বুঝলাম যে না এটা ফ্রড কেস নয়। Even আমি যখন বম্বে তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাই বাবা আমার সঙ্গে বেশ কয়েকজন বডিগার্ড পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন ও যদি টয়লেটে যায় তোমরা কমোডের পাসে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। কারণ, বুঝতে পারছিলাম না কাদের খপ্পরে পড়ছি (হেসে) এবং অ্যাকচুয়ালি আমি টয়লেটে ঢুকে মা, বাবাকে ফোন করে খুশির খবরটা দিই।

প্লাস বাংল‌াঃ বেশ মজার..

মুমতাজ: শুধু তাই নয়, ছবিতে যাঁরা actor, producer  বা অন্যান্যরা ছিলেন তাঁরা পর্যন্ত আমার খুঁটিনাটি সব বিষয়ে জানতেন।

প্লাস বাংলাঃ বক্সারের চরিত্রে অভিনয়, নিজেও সেটা ভালমতো জান? কখনও কাউকে কুপোকাত করেছো?

মুমতাজ: (হেসে) হ্যাঁ, অনেকবার, আমার মনে পনে যখন নতুন নতুন বক্সিং শিখছি, স্কুলে পড়ি, ছুটির পথে গাড়িতে না এসে হেঁটে ফিরছিলাম এক বন্ধুর সঙ্গে। রোডসাইড কিছু রোমিও থাকে তারা আমাদের ফলো করে আওয়াজ দিচ্ছিল। আমার বন্ধুতো ভয় পেয়ে গেছে। কিন্তু আমি তো নিজেকে হিম্যান মনে করছিলাম। ভাবছিলাম যে কারোর সঙ্গে পাঙ্গা নিতে পারব। ছেলে দুটো ফলো করতে করতে যখন একদম সামনে চলে এসেছে বুঝতে পারি তখনই ঘুরে গিয়ে এক ঘুষি মারি(প্রচন্ড হাসি)। তখন ছেলেটার এক্সপ্রেশন ছিল দেখার মতো। তারপর আশেপাসের লোকজন এসে তাদের বকুনি দেয়। সেল্ফ ডিফেন্সের জন্য এটা জানা উচিত।

প্লাস বাংলাঃ আচ্ছা, আবার ছবি প্রসঙ্গে আসি, আপকামিং কি প্রজেক্ট আছে ঝুলিতে?

মুমতাজ: আমি না ইমিডিয়েটলি এগুলো এক্সপোজ করতে চাইছি না। কারণ এটা আমার সঙ্গে প্রায়ই হয়, চারদিকে না এমন অনেক লোক আছে যারা অদ্ভুদ ম্যাজিক জানে। মানে কোনও একটা ছবির সব ফাইনাল, সাইন করব, কিন্তু দেখলাম হঠাৎ করে কাজটা হাত থেকে বেরিয়ে গেল। এই ম্যাজিকটা আমি শিখিনি। আমি এখনও নতুন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে মাত্র ছয় বছর। আমাকে এখনও অনেক ম্যাজিক শিখতে হবে।

প্লাস বাংলা: মুমতাজের জীবনে কি শাহজাহান এসেছে?

মুমতাজ: শাহাজাহান পাওয়াটা খুব কঠিন। বাড়িতে প্রায় কথা শুনতে হয়। বলে তোমাদের কোনও মুরোদ নেই। কিন্তু সিরিয়াসলি রাইট পার্সেনকে খুঁজে বের করা খুব দুষ্কর। জানি সেটা সম্ভব নয়।

তবে খুঁজে পেলে আমাকে বলতে হবে না সে আমার জন্য কিছু বানাবে কি না। যেমন শাহাজাহান মুমতাজের জন্য তাজমহল বানিয়েছিল। সে নিজেই বুঝে নেবে আমার মনের কথা।

(তারপর আর কি.. ঘড়ির কাঁটায় রাত ১১টা হতেই মুমতাজ ভ্যানিশ।)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY