চৈতন্য প্রার্থনায় কল্পতরু উৎসব

অমিত মিত্র

0
306

কল্পতরু । আভিধানিক অর্থে, যা চাওয়া যায় তাই পাওয়াই হল কল্পতরু। কিন্তু এই চাওয়া আর পাওয়ার বোধকে মননে, চৈতন্যে জারিত করে যিনি কল্পতরু হয়েছিলেন, তিনি পরমহংসদেব, শ্রীরামকৃষ্ণ।

rkmBelur1১৮৮৬ সালের পয়লা জানুয়ারি । রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তখন দুরারোগ্য গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাঁর শারীরিক অবস্থারও যথেষ্ট অবনতি ঘটেছে। উত্তর কলকাতার কাশীপুর অঞ্চলের একটি বাগানবাড়িতে চিকিৎসার সুবিধার জন্য তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল । ১ জানুয়ারি একটু সুস্থ বোধ করায় তিনি বাগানে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর অনুগামী নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষকে ঠাকুর আচমকা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “তোমার কি মনে হয়, আমি কে?” হতচকিত গিরিশচন্দ্র বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে রামকৃষ্ণ পরমহংস “মানবকল্যাণের জন্য মর্ত্যে অবতীর্ণ ঈশ্বরের অবতার।” এরপরই শ্রীরামকৃষ্ণ বলে ওঠেন, “আমি আর কি বলব? তোমাদের চৈতন্য হোক।”

indexএরপর তিনি সমাধিস্থ হয়ে তাঁর প্রত্যেক শিষ্যকে স্পর্শ করেন। রামকৃষ্ণ-অনুগামীদের মতে, তাঁর স্পর্শে সেদিন প্রত্যেকের মধ্যে অদ্ভুত কিছু আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়েছিল। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের অন্যতম শিষ্য রামচন্দ্র দত্ত ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, সেই দিন রামকৃষ্ণ পরমহংস হিন্দু পুরাণে বর্ণিত কল্পতরুতে পরিণত হয়েছিলেন। তিনিই এই দিনটিকে কল্পতরু দিবস নাম দিয়েছিলেন, যা পরে কল্পতরু উৎসব নামে পরিণত হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই দিন রামকৃষ্ণ পরমহংসের গৃহী শিষ্যরাই তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যেরা সেই দিন তাঁর কাছে ছিলেন না।

cossipore udyan bati on kalpataru utsav১৮৮৬-র সেই পয়লা জানুয়ারি থেকে প্রতি বছর এই দিনটি উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে কল্পতরু দিবস হিসেবে। বিভিন্ন জায়গায় এই উৎসব পালিত হলেও কাশীপুর উদ্যানবাটীতে (বর্তমানে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের একটি শাখাকেন্দ্র) এই উৎসব মহা সমারোহে অনুষ্ঠিত হয়। এখানেই রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব জীবনের শেষদিনগুলি অতিবাহিত করেছিলেন।

maxresdefaultদক্ষিণেশ্বরে মা ভবতারিণীর মন্দিরেও সমারোহে উদ্‌যাপিত হয় কল্পতরু উৎসব।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY