ফাঁসিতেই কি কমবে ধর্ষণ ? রয়েই যায় প্রশ্ন

0
74

তালিকায় যুক্ত হল আরও চার জন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে দেশের বিভিন্ন জেলে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ছিল ৩২৫ জন। গতকাল নির্ভয়া কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্ট অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখায় ওই সংখ্যা ৩২৯ ছুঁল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, আইনি জটিলতা শেষ হলেই দ্রুত ওই ফাঁসির আদেশগুলি কার্যকর হবে।

16586_10151188594586342_1275802587_nভারতে গত কয়েক বছরে ফাঁসির সিদ্ধান্ত কার্যকর করার হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সমালোচনায় সরব রয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। গত পাঁচ বছরে তুলনামূলক ভাবে কমেছে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ফাঁসির আসামির সাজা মুকুব করার ঘটনা। গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় মাত্র চার জন ফাঁসির আসামির সাজা মুকুব করেছেন। সেখানে প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হয়েছে ২৮টি। যে তালিকায় রয়েছে, আজমল কসাভ, আফজল গুরু বা ইয়াকুব মেমনরা। রাষ্ট্রপতির সচিবালয় সূত্রে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে কোনও প্রাণভিক্ষার আবেদন পড়ে নেই রাষ্ট্রপতির টেবিলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, রাজ্যগুলির মধ্যে ফাঁসির আসামির সংখ্যা সব থেকে বেশি উত্তরপ্রদেশে। সেখানে ৬৮ জন রয়েছেন যাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। পশ্চিমবঙ্গে এ রকম আসামির সংখ্যা ৬ জন। ফাঁসির আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করতে পারেন। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পরামর্শ করেই প্রাণ ভিক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রপতি।

NEW DELHI, INDIA - NOVEMBER 21: People take part in a candlelight vigil at Jantar Mantar to protest against soon to walk free juvenile accused in Nirbhaya case, on November 21, 2015 in New Delhi, India. (Photo by Raj k Raj/Hindustan Times via Getty Images)

তবে নির্ভয়া-কাণ্ডের পরেও থেমে থাকেনি ধর্ষণের মতো অপরাধ। আর দেশের শীর্ষ আদালত নির্ভয়াকাণ্ডে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলেও অধিকাংশই এক মত, এই ফাঁসির সাজাতেও অপরাধ থেমে থাকবে না। ২০১২-র ১৬ ডিসেম্বর— নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের পরে দিল্লির রাজপথে নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছিল। নেতৃত্বহীন সেই আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। দিল্লিতে সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ আলবিনা শাকিলের যুক্তি, ‘‘২০১৫-র হিসেব বলছে, মহিলাদের বিরুদ্ধে ১ লক্ষ ৩৬ হাজারের বেশি অপরাধে মামলা বা তদন্ত চলছে। যার মধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার মতো।’’ তাঁর মতে, ‘‘ফাঁসির সাজা খুবই কড়া শাস্তি। কিন্তু বিচারব্যবস্থার শ্লথ গতির বিচারে তা খুবই বিরল।’’ একই সুরে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী মেনকা গান্ধী বলেছেন, ‘‘আরও দ্রুত এই শাস্তি হওয়া প্রয়োজন ছিল।’’

দিল্লির রাজপথে সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হয়েছিল ইউপিএ-সরকার ও দিল্লির শীলা দীক্ষিত সরকারকে। তার পরে বর্মা কমিটি তৈরি হয়েছে। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের কড়া শাস্তি দিতে আইন সংশোধন হয়েছে। কিন্তু থেকে থাকেনি অপরাধ। তাই দেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন ওঠে, দেশ থেকে, সমাজ থেকে কবে নির্মূল হবে এমন ঘৃণ্যতম অপরাধের শিকড়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY