চাকায় চাকায়

0
293

দুচাকায় ভর করে বেরিয়ে পড়া। এ এক অন্য রোমাঞ্চ। সেই রোমাঞ্চকেই প্লাস বাংলায় তুলে ধরলেন সুব্রত গোস্বামী। লেখা পড়ে, ছবি দেখে ঘরে বসেও হতে পারে আপনার মানস ভ্রমণ। আজ দ্বিতীয় পর্ব।

হেলে দুলে পৌঁছে গেলাম গোপালপুর। গোপালপুর অন সী। এখানে আজ রাত্রিবাস। আবার কাল সকাল পাঁচটায় ওঠা, তৈরি হয়ে নিয়ে ছটায় নতুন গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেওয়া। এই রুটিনটা কিন্তু গোটা ট্রিপেই আমাদের মেনে চলতে হয়েছে। আসলে উৎশৃঙ্খল হতে গেলেও একটা শৃঙ্খলা থাকা দরকার। গোটা ট্রিপে যে রুটিনটা আমরা মেনে চলেছি সেটা একবার বলে নিই বরং। প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠা। “কাল সকালের চা-টা আমিই বানাবো” এই সংলাপটিও নিজেদের অবচেতনে নিয়ম মেনেই বলেছি আমরা। প্রশন হল চা কিসে বানালাম। আসার আগে বৌদি, মানে অশোকদার বউ অর্প্যাটের একটা ইলেকট্রিক টি কেটলি আমাদের চারজনের উদ্দেশ্যে উপহার দিয়েছিল। বর আসলে টি-টেস্টার। বৌদি ভালো করেই জানত টেমি টি-গার্ডেনের বাছাই করা পাতা ভেজানো চা নাহলে বরের ঘুম ভাঙেনা। তা যাই হোক, চা খেয়ে তৈরি হয়ে নিয়ে ঠিক ছটার সময় বাইক স্টার্ট। পথে জলখাবার, পথেই দুপুরের খাবার। এভাবেই আলো থাকতে থাকতে সেদিনের গন্তব্যে পৌঁছনো।

gopalpur-on-sea-fishing-boatগোপালপুর পৌঁছে সমুদ্রের ধারে একটা পুরোনো হোটেল আমরা নিজেরাই পছন্দ করে নিলাম। ঘর খালি আছে কি না জানিনা, পছন্দ তো করে নিই আগে। রানাদা আর চির আগে এখানে থেকে গেছে। দু-তলা বাড়ি, পাশে বিরাট খালি জায়গা আর সামনে সমুদ্র। চির বলল ঘরে শুয়ে শুয়ে সমুদ্র দেখা যায় নাকি। আমাদের পছন্দের ওপর সবটুকু নির্ভর করে বসে নেই বুঝলাম। জনমানবহীন হোটেলে দেখলাম ম্যানেজার কেয়ার-টেকার নামক বস্তুটিও উধাও। সাইনবোর্ডে লেখা নম্বরে বার-তিনেক ফোন করে বেজে গেল। অন্য একটা হোটেল খুঁজে নিলাম অগত্যা। ভালো, তবে হোটেলের ঘরে শুয়ে শুয়ে সমুদ্র দেখা যায়না। দুপুরে একটা ফাটাফাটি খাওয়াদাওয়ার পর আমি আর অশোকদা ঘুমিয়েই পড়েছিলাম। রানাদা আর চির সি-বিচে হেঁটে এসে বলল, “খোঁজ নিয়ে এলাম প্রতিদিন এখানে কাবাব বসে না।”  যাহ্‌। গোপালপুর ঢোকার আগে থেকে রানাদা বলে আসছিল যে এখানে নাকি সি-বিচে ‘অসসসসাধারণ সুন্দর’ কাবাক পাওয়া যায়। রাতে পেটপুরে কাবাব খাওয়া হবে। “সে গুড়ে বালি”র মত সে কাবাবে কি দিলে দুঃখটাকে ভালোভাবে বোঝানো যাবে বুঝতে পারছিনা। তবে রাতে দুপুরের মত আবার একটা ভালো-খানা জুটে গেল। সঙ্গে উড়িষ্যার বিখ্যাত ছানাপোড়া। বেকড ছানা। জিভকে এক অপূর্ব আরামের মুখোমুখি করা। হোটেলের বিছানায় গা এলানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমে চোখ জড়িয়ে এল। কাল ভোরেই গোপালপুরকে বিদায় জানাতে হবে।

shareiq_363_1383559436.819456রুটিন মাফিক ভোরে ঘুম থেকে উঠে সমুদ্রসৈকতে একটু পায়চারি করে এলাম। যা বুঝলাম সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে একটা সেলফি না নিলে অন্যায় হয়ে যাবে। অতএব সেলফি স্ন্যাপন এবং পরবর্তি গন্তব্যের উদ্দেশে গমন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY