৪ মিনিটের ব্যবধানে মহাসিন্ধুর ওপারে, একে অপরের কাছে

0
259

টাইটানিক ছবির একটা দৃশ্য। জাহাজে তখন জল ঢুকছে হু হু করে। ডুবছে তখন টাইটানিক। শিয়রে নিশ্চিত মৃত্যুকে নিয়ে জাহাজের এক কেবিনের বিছানায় এক বৃদ্ধ দম্পতি নিজেদের আলিঙ্গন করল নিবিড় চুম্বনে। শেষ চুম্বন। কিন্তু সেই চুম্বনই যেন চিহ্ন এঁকে দিয়েছিল অমর ভালবাসার। couples-in-aged-care-580x395

টাইটানিকের বাস্তব দুর্ঘটনার সময় এমনটা হয়েছিল হয়ত। তবে এক ব্রিটিশ দম্পতি দেখিয়ে গেলেন ভালবাসার মৃত্যু হয় না।  মৃত্যুও আমাদের আলাদা করতে পারবে না’, বেঁচে থাকা অবস্থায় একাধিকবার বলতেন ব্রিটেনের ওই বৃদ্ধ দম্পতি। ৭১ বছরের বিবাহিত জীবন তাঁদের। দুজনের প্রতি দুজনের ভালবাসা এতটাই দৃঢ় ছিল যে কেউ কাউকে ছেড়ে থাকতে পারতেন না। তাঁদের কথাই মিলে গেল। মৃত্যুও তাঁদের আলাদা করতে পারল না।

প্রসঙ্গত, কয়েকমাস ধরে ডিমেনশিয়ায় ভুগছিলেন স্বামী উইলফ রাসেল। ৯৩ বছরের উইলফ তাঁর ৯১ বছরের স্ত্রী ভেরাকেও চিনতে পারছিলেন না। সেই দুঃখে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যান ভেরা উইলফও। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত উইলফ যখন একটি কেয়ার হোমে রবিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন তার থেকে ঠিক চার মিনিটের ব্যবধানে অপর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্ত্রী ভেরা। যদিও স্ত্রী তাঁর স্বামীর মৃত্যুর খবর জানতেন না। আর মৃত্যুর আগের মুহূর্তেও স্বামীর কথা বলেছিলেন স্ত্রী ভেরা। মৃত্যুশয্যায় তাঁর নাতি-নাতনিদের বলেছিলেন, মন কেমন করছে উইলফের জন্য।

উইলফ মারা গিয়েছেন ৬টা বেজে ৫০ মিনিটে, আর তার ঠিক চার মিনিট পরে ৬ টা বেজে ৫৪ মিনিটে পরপারে চলে গেলেন তাঁর সাত দশকের জীবনসঙ্গিনী। উইলফের সঙ্গে ভেরার দেখা সেই কৈশোরে। সেসময় উইলফের বয়স ছিল ১৮, ভেরা ১৬। তাঁদের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। পাঁচ নাতি নাতনি, তাঁদেরও সাত সন্তান রয়েছে। ভরা সংসার রেখে এবার এই বৃদ্ধ দম্পতি পাড়ি দিলেন মহাসিন্ধুর ওপারে চিরশান্তির খোঁজে, একে অপরের আশ্রয়ে। হয়ত বা পরজন্মে আবারও কোনও এক জায়গায় ভালবাসার ঘর হবে এই দম্পতির আশ্রয়। যেখানে মৃত্যু পেরিয়ে শেষ কথা বলবে ভালবাসাই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY